সাইলেন্ট স্যাক্রিফাইস আব্দুস সাত্তার ফাউন্ডেশন

একজন পিতার নীরব ত্যাগকে সম্মান জানানো। জীবনভর ফিরিয়ে দেওয়ার অনুপ্রেরণা।

প্রতিষ্ঠিত ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ • শেখ আব্দুস সাত্তারের স্মৃতিতে

Foundation Launch Video
Facebook-এ দেখুন
ভিডিও প্লে করতে ক্লিক করুন

একজন পিতার অসীম ভালোবাসা এবং নীরব ত্যাগের গল্প

একজন বাবার নীরব ত্যাগের গল্প — যা আসলে সব বাবার গল্প

একজন বাবার ভালোবাসা সবসময় শব্দে প্রকাশ পায় না। অনেক সময় সেই ভালোবাসা নীরব থাকে— কিন্তু সেই নীরবতাই সবচেয়ে গভীরভাবে কথা বলে।

Silent Sacrifice Abdus Sattar Foundation গড়ে উঠেছে এমনই এক নীরব ত্যাগের গল্প থেকে। এই গল্প শুধু একজন বাবার নয়— এই গল্প প্রতিটি বাবার, যিনি নিজের কষ্ট, ভয়, অসহায়ত্ব আর স্বপ্ন চুপচাপ নিজের ভেতরেই রেখে দেন শুধু সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য।

একজন সাধারণ মানুষ, কিন্তু অসাধারণ ত্যাগ

আমাদের বাবার নাম ছিল শেখ আব্দুস সাত্তার। পেশায় তিনি ছিলেন একজন সাধারণ শাকসবজি ব্যবসায়ী। কিন্তু আমাদের জীবনে তিনি ছিলেন আমাদের পুরো পৃথিবী।

তার জীবন ছিল খুব সাধারণ। কিন্তু তার চিন্তা ছিল অনেক বড়।

তার একটাই লক্ষ্য ছিল— তার সন্তানের পড়াশোনা যেন কখনো থেমে না যায়, পরিবার যেন শান্তিতে ও সম্মানের সাথে বাঁচতে পারে।

তিনি বিশ্বাস করতেন, "শিক্ষাই একজন মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি।"

যে কষ্ট তিনি কাউকে বলেননি

জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে শেখ আব্দুস সাত্তার ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হন। কিন্তু তিনি সেই সত্যটি নিজের সন্তানকেও কখনো জানাননি।

তিনি চুপ করে ছিলেন— কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন, তিনি যদি বলতেন:

  • সন্তানের পড়াশোনার মনোযোগ নষ্ট হবে
  • মানসিক শান্তি ভেঙে যাবে
  • চিকিৎসার টাকার চিন্তায় পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যেতে পারে
  • আর তার সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে যাবে

তার কাছে নিজের জীবনের চেয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ ছিল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই তিনি নিজের কষ্ট নিজের মধ্যেই রেখে দিয়েছিলেন।

অসুস্থ শরীর, কিন্তু অটুট মনোবল

ক্যান্সারের যন্ত্রণার মাঝেও তিনি কাজ করা বন্ধ করেননি।

প্রতিদিন শাকসবজির ব্যবসা করে গেছেন— শুধু এজন্য, যেন:

  • ঘরে খাবার থাকে
  • পড়াশোনা বন্ধ না হয়
  • পরিবার দুশ্চিন্তামুক্ত থাকে

তিনি কখনো অভিযোগ করেননি। কখনো সাহায্য চাননি। নিজের অসুস্থতাকে কখনো পরিবারের বোঝা হতে দেননি।

তার ভেতরে ছিল অসীম সাহস, আত্মবিশ্বাস আর আশা।

তিনি বিশ্বাস করতেন— একদিন তার সন্তান সমাজের জন্য কিছু ভালো করবে। এই বিশ্বাসই তাকে শেষ দিন পর্যন্ত শক্ত করে রেখেছিল।

একটি নীরব বিদায়

শেখ আব্দুস সাত্তার এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন নীরবে— যেমন নীরবেই তিনি সারাজীবন ত্যাগ করে গেছেন।

কিন্তু তার ত্যাগ নীরবে হারিয়ে যাওয়ার নয়।

কারণ এই ত্যাগ শুধু একটি পরিবারের গল্প না— এটি হাজারো বাবার গল্প, যারা প্রতিদিন নীরবে লড়াই করেন সন্তানের মুখে হাসি দেখার জন্য।

একটি ত্যাগ থেকে একটি প্রতিশ্রুতি

এই অনুভূতি থেকেই Silent Sacrifice Abdus Sattar Foundation–এর জন্ম।

এই ফাউন্ডেশন কোনো দয়া প্রদর্শনের জায়গা নয়। এটি একটি দায়িত্ববোধ।

একটি প্রতিশ্রুতি—

  • যেন কোনো সন্তানের পড়াশোনা দারিদ্র্যের কারণে থেমে না যায়
  • যেন কোনো ক্যান্সার রোগী নীরবে কষ্ট না পায়
  • যেন কোনো পরিবার অসহায় অবস্থায় একা না পড়ে
  • যেন একজন বাবার ত্যাগ অদৃশ্য হয়ে না যায়

ফাউন্ডেশনটি প্রতিষ্ঠিত হয় ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫— একজন বাবার স্মৃতিকে সম্মান জানাতে এবং তার ত্যাগকে সমাজের কাজে রূপ দিতে।

আমরা কী করি

বর্তমানে Silent Sacrifice Abdus Sattar Foundation কাজ করে—

  • 📖কুরআন শিক্ষা কার্যক্রম
  • 🎓সম্পূর্ণ ফ্রি মেন্টরশিপ ও গাইডলাইন
  • 💼ফ্রি ইন্টার্নশিপ ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট
  • 📚দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা
  • 🎗️ক্যান্সার রোগী ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো
  • 🍚ক্ষুধার্তদের খাবার প্রদান
  • 🌱ট্রি প্ল্যান্টেশন ও পরিবেশ সচেতনতা
  • 💔বাবাদের নীরব ত্যাগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি

আমাদের প্রথম সাফল্য:

গত বছর আমরা ৬০ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে নিয়ে কুরআন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। এটি আমাদের কাজের প্রথম ধাপ।

আমাদের বিশ্বাস

আমরা বিশ্বাস করি— একজন বাবা যেমন নীরবে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলেন, ঠিক তেমনই সমাজ গড়ার কাজও নীরবে, নিষ্ঠার সাথে করতে হয়।

আমরা বিশ্বাস করি— সহানুভূতি, শিক্ষা ও দায়িত্ববোধ একসাথে থাকলেই সমাজ বদলায়।

এটা শুধু আমাদের গল্প নয়

এই ফাউন্ডেশনের গল্প শুধু শেখ আব্দুস সাত্তারের গল্প নয়।

এই গল্প সেই বাবার— যিনি নিজের স্বপ্নটা পেছনে রেখে সন্তানের স্বপ্নটাকে সামনে এগিয়ে দেন।

এই গল্প সেই বাবার— যাকে আপনি প্রতিদিন দেখেন, কিন্তু খুব কমই শোনেন।

এটা আপনার বাবার গল্পও।

আমাদের সাথে থাকুন

আপনি যদি এই গল্পের ভেতরে নিজের বাবাকে খুঁজে পান— তাহলে আমাদের সাথে থাকুন।

ডোনার হিসেবে, ভলান্টিয়ার হিসেবে, মেন্টর হিসেবে— অথবা শুধু একজন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে।

Silent Sacrifice Abdus Sattar Foundation

একজন বাবার নীরব ত্যাগ— যা আজও আমাদের পথ দেখায়।

তাঁর যাত্রা

1

সবজি বিক্রেতা হিসাবে জীবন

শেখ আবদুস সাত্তার একজন সাধারণ সবজি বিক্রেতা হিসাবে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তাঁর পরিবারের সুখ এবং সন্তানের শিক্ষার জন্য তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছেন।

2

শিক্ষা সম্পর্কে গুরুতর

তিনি শিক্ষার শক্তিতে গভীরভাবে বিশ্বাস করতেন এবং এটি তাঁর মিশন ছিল যে তাঁর সন্তান চিন্তা ছাড়াই পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে পারে।

3

লুকানো যুদ্ধ

ক্যান্সার ধরা পড়লে, তিনি তাঁর সন্তানের মানসিক শান্তি এবং একাডেমিক ফোকাস রক্ষা করতে তাঁর অসুস্থতা লুকানোর বেদনাদায়ক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

4

অসুস্থতার মধ্যে কাজ করা

ক্যান্সারের সাথে লড়াই করা সত্ত্বেও, তিনি প্রতিদিন কাজ চালিয়ে যেতেন টেবিলে খাবার রাখতে এবং তাঁর সন্তানের শিক্ষা অব্যাহত রাখতে।

5

অভ্যন্তরীণ শক্তি

তাঁর ভিতরে অসাধারণ আত্মা, সাহস এবং আশা বাস করত। তিনি তাঁর অনুভূতি নিজের মধ্যে রেখেছিলেন এবং তাঁর পরিবারের জন্য ইতিবাচক ছিলেন।

6

নীরব প্রস্থান

তিনি নীরবে এই পৃথিবী ছেড়ে গেছেন, কিন্তু তাঁর ত্যাগ এবং নিঃশর্ত ভালোবাসা প্রতিদিন আমাদের অনুপ্রাণিত করে।

7

ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫-এ, তাঁর ত্যাগকে সম্মান জানাতে এবং সমাজসেবা করার জন্য সাইলেন্ট স্যাক্রিফাইস আব্দুস সাত্তার ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

আমাদের মূল্যবোধ

এই নীতিগুলি আমরা যা করি তার সবকিছুকে গাইড করে যেখানে আমরা তাঁর ত্যাগকে সম্মান জানাতে কাজ করি

❤️

করুণা

আমরা সহানুভূতি এবং বোঝাপড়ার সাথে নেতৃত্ব দিই, অনেকে যে নীরব সংগ্রামের মুখোমুখি হয় তা স্বীকার করি।

🎓

শিক্ষা

আমরা বিশ্বাস করি শিক্ষাই দারিদ্র্যের চক্র ভাঙতে এবং সুযোগ তৈরি করার চাবিকাঠি।

📖

বিশ্বাস

আমরা যা করি তার সবকিছুতে আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ এবং কুরআনের আলো দ্বারা পরিচালিত হই।

🤝

সেবা

আমরা আমাদের সম্প্রদায় এবং যাদের প্রয়োজন তাদের নিঃস্বার্থ সেবার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

🌟

মর্যাদা

আমরা প্রতিটি ব্যক্তির মর্যাদা এবং প্রতিটি ত্যাগকে সম্মান করি যা আমরা সেবা করি।

🌱

স্থায়িত্ব

আমরা মানুষ এবং আমাদের গ্রহের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে কাজ করি।

তাঁর ত্যাগ সম্মান করতে আমাদের সাহায্য করুন

শিক্ষা, করুণা এবং সেবার তাঁর মিশন চালিয়ে যেতে আমাদের সাথে যোগ দিন।